দৈনন্দিন জীবন

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফযিলত

ভূমিকা : রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শেষ দশ রাত। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমাদানের শেষ দশ রাতে প্রায় সারারাত জাগ্রত থেকে কিয়ামুল লাইল ও ইবাদতে রত থাকতেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর পরিবার পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। কেননা রমাদানের শেষ দশ রাতের মধ্যেই রয়েছে লাইলাতুল কদর। এই রাত্রটি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সবচেয়ে বড়ো নেয়ামত। একটি রাতের ইবাদত এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৪ বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাছাড়া এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির হিদায়াতের জন্য নাযিল করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। কত বড়ো নেয়ামত ও গুরুত্বপূর্ণ এ রাত। । নিম্নে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ রাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বর্ণনা তুলে ধরা হলো্।

লাইলাতুল কদর :  লাইলাতুল কদর‎‎ এর মধ্যকার ‘লাইলাতুল’ শব্দের অর্থ হলো রাত্রি বা রজনি আর ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এছাড়া এর অন্য অর্থ হচ্ছে; ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। সুতরাং লাইলাতুল কদর‎‎ এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা ভাগ্য রজনি।

লাইলাতু কদরে বৈশিষ্ট্য : লাইলাতুল কদরের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো-

১. এ রাতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে।

২. এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

৩. এ রাতে হযরত জিবরাঈল (আঃ) এক দল ফিরিশতাসহ জমিনে অবতরণ করেন।

৪. এছাড়াও এ রাতটিই ভাগ্য রজনি; যে রাতের কথা সূরা দুখানে বর্ণনা করা হয়েছে।

৫. এ রাতে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদে জাগ্রত থাকলে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

লাইলাতুল কদর কি নির্দিষ্ট : কুরআনুল কারীমে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাত। তাই কোন রাত লাইলাতুল কদর তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। এ মহা মূল্যবান রাতকে আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ হেকমতের কারণেই অনির্দিষ্ট রেখেছেন। তবে তা অনির্দিষ্ট হলেও আমাদের জন্য অনেকটাই নির্দিষ্ট। কেননা লাইলাতুল ক্বদর সাধারণত রমাদান মাসেই হয়ে থাকে। তা হলে বাকি এগারো মাস থেকে নির্দিষ্ট হয়ে গেল একমাস। একমাসের মধ্যে আবার শেষ দশকেই হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আরও সীমাবদ্ধ হয়ে গেল । এরপর এ দশ দিনের মধ্যে আবার বেজোড় রাত্রে হওয়া নির্দিষ্ট। এই সম্পর্কে রাসূল (সাঃ)  বলেন, যদি কেউ লায়লাতুল কদর খুঁজতে চায় তবে সে যেন তা  রমাদানের শেষ দশ রাত্রিতে  খোঁজ করে। (সহীহ মুসলিম : ২/৮২৩)

অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল (সাঃ)  বলেন, তোমরা রমাদানের শেষ দশ রাত্রিতে লাইলাতুল কদর সন্ধান করবে। যদি কেউ একান্তই দূর্বল হয়ে পড়ে, তবে অন্তত শেষ সাত রাতের ব্যাপারে যেন কোনো ভাবেই দুর্বলতা প্রকাশ না করে। (সহীহ বুখারী : ২/৭১১, সহীহ মুসলিম : ২/৮২৩)

অন্য এক হাদীসে রাসূল (সাঃ)  বলেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বিজোড় রাতগুলিতে তা খোঁজ কর্। (সহীহ বুখারী : ২/৭০৯, সহীহ মুসলিম : ২/৮২৩)

হযরত আবূ যার (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ২৩শে রমাদানের রাত্রিতে আমাদের নিয়ে কিয়ামুল লাইল করলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। এরপর বলেন, তোমরা যা খুঁজছ তা মনে হয় সামনে। এরপর ২৫শের রাতে মধ্যরাত পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল করলেন। এরপর বললেন, তোমরা যা খুঁজছ তা বোধহয় সামনে। এরপর ২৭শের রাতে তিনি নিজের স্ত্রীগণ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ সবাইকে ডেকে আমাদেরকে নিয়ে প্রভাত পর্যন্ত জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল করলেন, এমনকি আমরা ভয় পেয়ে গেলাম যে, সাহরী খাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। (তিরমিযী : ৩/১৬৯, সহীহ ইবনে খুযাইমা : ৩/৩৩৭, মুসনাদে আহমদ : ৫/১৮০, হাদীসটি হাসান সহীহ)

সুতরাং আমাদের উচিত রমাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাত তথা ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমাদানের রাতগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে অতিবাহিত করা। আল্লাহ তায়ালা এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফযিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে। তাই লাইলাতুল কদর অন্বেষণে  আমাদের কর্তব্য হলো রমাদানের শেষ দশকের সকল বিজোড় রাত্রিতে কিয়ামুল লাইল, বেশি বেশি ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তেগফারসহ দু’আ ও ইবাদতে মশগুল থাকা।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব : পৃথিবীর প্রতিটি মুসলমানের কাছে এই রাত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনির উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন আল্লাহ নিজেই। এই রাতে তাঁর কালাম অবতীর্ণের কারণে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা অধিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।  তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেন-

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ

‘নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী। তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃ পুরুষদেরও রব।’ (সূরা দুখান : ৩-৮)

হাদীস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হযরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাযরত অথবা যিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (তাফসীরে মাযহারী)। 

এ রাতের মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন,  ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। তিনি আরো ইরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (সহীহ বুখারী : ২/৬৭২, সহীহ মুসলিম : ১/৫২৩)

অপর এক হাদীসে হযরত রাসূলে করীম (সা.) ইরশাদ করেন, যে লোক লাইলাতুল কদর থেকে বঞ্চিত হলো সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হলো। (ইবন মাযাহ)

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।(আবু দাউদ) 

আর এজন্যই কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানের শেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়শা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমাদান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। তিনি তাঁর ওফাত পর্যন্ত এভাবে ইতিকাফ করেন। অতঃপর তাঁর স্থীগণ তাঁর পরে ইতিকাফ করেন।(সহীহ বুখারী : ২/৭১৩, সহীহ মুসলিম : ২/৮৩০-৮৩১)

কুরআন নাযিলের রাত লাইলাতুল কদর : কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যে, বরকতময় রজনি হলো লাইলাতুল কদর। এ রাত্রটিকে আল্লাহ তায়ালা সূরা দুখানে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতের রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হলো এ রাতে পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুয থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যার নাম সূরাতুল কদর। সূরাটিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ

‘নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কী জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাঈল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত। (সূরা কদর : ১-৫)

সূরাতুল কদর অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট : ইবনে আবি হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সম্মুখে বনী ইসরাঈলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল যাবত ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর যবান মোবারক থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে  কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হযরত জিবরাঈল (আ.) এর মাধ্যমে রাসূল (সা.)এর নিকট এই সূরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন।  (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ও তাফসীরে মাযহারী)।

লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় : হাদীসের আলোকে লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় হচ্ছে-

ক. কদরের ফযিলত লাভের উদ্দেশ্যে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা, নফল নামায আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, তাছবীহ-তাহলীল পাঠ করা, লম্বা ক্বেরাত দিয়ে ধীরস্থিরে রুকু-সিজদা আদায় করার মাধ্যমে কিয়ামুল লাইল আদায় করা।

খ. লাইলাতুল কদর হলো বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এ রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। এ রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা চাওয়ার দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। হাদীসে এসেছে, হযরত আয়েশা (রা.) রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি বুঝতে পারি শবে কদর কোন রাত, তাহলে ঐ রাতে আমি কী বলব? আল্লাহর কাছে কী চাইব? প্রিয় নবী (সা.) তদুত্তরে বললেন তুমি বলবে-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা, আফুউন কারীম, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাড়ফু আন্নী)

‘হে আল্লাহ আপনি বড়োই ক্ষমাশীল মর্যাদাময়। ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন’ (তিরমিযী : ৫/৫৩৪, ইবনে মাযাহ : ২/১২৬৫, হাদীসটি হাসান সহীহ)

কেউ যদি জীবনে অনেক কিছু পায় কিন্তু ক্ষমা না পায়, তাহলে তার জীবন ব্যর্থ। তাই এ রাতে অন্তরকে নরম করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে খাঁটি দিলে তওবা ইস্তেগফার করতে হয়। খাঁটি তওবার চারটি শর্ত রয়েছে। যথা-

১. পূর্বের গুনাহ থেকে ফিরে আসা বা গুনাহ ছেড়ে দেয়া

২. গুনাহের জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া এবং অন্যায় স্বীকার করা

৩. ভবিষ্যতে ঐ গুনাহ আর না করার জন্য মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা

৪. হক্কুল ইবাদ বা বান্দাহর কোনো হক নষ্ট করে থাকলে যথাসাধ্য সে হক আদায় করে দেয়া।

গ. লাইলাতুল কদর পাওয়ার আশায় রমাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা। কেননা রাসূল (সা.) রমাদানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। আর তিনি উম্মতের জন্য শরীয়তে ইতেকাফের বিধান কিয়ামত পর্যন্ত জারি রেখে গিয়েছেন; যেন তারা ইতেকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেকটি বিজোড় রাতে ইবাদত করতে পারেন।

ঘ. আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরে কুরআন নাযিল করেছেন। এ রাত বছরে একবার আসে আর চলে যায়। কিন্তু এ রাতের মহান নিয়ামত কুরআন নিয়ে আমরা আলোচন-পর্যালোচনা ও গবেষণা করিনা, আমরা কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করি না। কুরআনের আইন সমাজে বাস্তবায়নের জন্য কোনো কাজ করি না। অথচ মানব জীবনে সাফল্য এই কুরআনের আমলের উপরই নির্ভরশীল। এই রাতের মর্যাদার মূল্যায়ন তখনই যথার্থ হবে; যখন আমরা কুরআনের নির্দেশিত পথে চলবো, কুরআন দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নিব এবং  কুরআনের বাহক মুহম্মদ (সা.) এর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও আনুগত্য করবো।

শেষ কথা : লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফযিলত অপরিসীম। তাই আমাদের উচিত লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে রমাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিসমূহে রাতব্যাপি জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগী করা, বেশি বেশি নফল নামায, তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা-ইসতেগফার, দু’আ-দুরূদসহ বিভিন্ন নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল কদর তালাশ করে সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে এর সর্বময় গুরুত্ব ও ফযিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লিখেছেন :

মো: মোহিব্বুল্লাহ আজাদ

মুহাদ্দিস, লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবীদ।

Related Posts