জিজ্ঞাসা ও জবাব

জিজ্ঞাসা ও জবাব – ৪

জিজ্ঞাসা ।। সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে সাহরী খাওয়ার হুকুম কী?

জবাব ।। আলহামদু লিল্লাহ। ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। ওয়া বা’দ-

সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে সাহরী খাওয়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

تسحروا فإن فيه بركة –

‘তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।’  (সহীহ বুখারী : হাদীস ১৯২৩, সহীহ মুসলিম : হাদীস ২৬০৩)

তবে সাহরী না খেয়ে সিয়াম পালন করলেও সিয়াম আদায় হয়ে যাবে। যদি তা-ই হয় তাহলে সাহরী খাবেন কেন ? এর জবাবে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন-

ক. সাহরী খাওয়া সুন্নাত। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহরী খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।

খ. সারা দিনের ক্ষুধা-পিপাসা মোকাবিলা করার জন্য।

গ. সাহরী খেলে সিয়াম পালনে কষ্ট কম হয় ও সিয়াম পালন সহজ হয়।

ঘ. ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য। কারণ তারা সিয়াম পালন করতে সাহরী খায় না। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

فصل ما بين صيامنا وصيام أهل الكتاب أكلة السحور. مسلم

‘আমাদের ও ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সিয়ামের মাঝে পার্থক্য হলো সাহরী খাওয়া।’  (সহীহ মুসলিম : হাদীস ২৬০৪)

ঙ. সাহরির মাধ্যমে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

চ. ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করা নিশ্চিত হয়।

তাই সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তবে সাহরীর খাবার হালকা হওয়া ভালো। এমন বেশি খাওয়া উচিত নয়, যাতে দিনের বেলা কাজ-কর্মে অলসতা দেখা দেয়। যেকোনো হালাল খাবার সাহরীতে গ্রহণ করা যায়। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

نعم سحور المؤمن التمر. أبو داود

‘মুমিনের উত্তম সাহরী হলো খেজুর।’  (আবু দাউদ : হাদীস ২৩৪৭) 

তিনি আরো বলেন :

السحور أكلة بركة فلا تدعوه، ولو أن يـجرع أحدكم جرعة من ماء، فإن الله وملائكته يصلون على المتسحرين. أحمد

‘সাহরী হলো একটি বরকতময় খাদ্য, তাই তা তোমরা ছেড়ে দিয়ো না। এক ঢোক পানি দ্বারা হলেও সাহরী করে নাও। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও ফেরেশ্‌তাগণ সাহরীতে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করে থাকেন।’  (আহমদ : হাদীস ১১৩৮৪)

লিখেছেন :

মো: মোহিব্বুল্লাহ আজাদ

মুহাদ্দিস, লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবীদ।

Related Posts