দৈনন্দিন জীবন

কুরআন নাযিলের মাস রমাদান

মহান আল্লাহ মানব জাতির হেদায়াতের জন্য সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ যে গ্রন্থ নাযিল করেছেন এর নাম মহাগ্রন্থ আল কুরআন।  এটি আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর ওপর এই রমাদান মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে। শুধু কুরআনই নয়, প্রায় সব আসমানি কিতাব আল্লাহ তায়ালা এ মাসেই অবতীর্ণ করেছেন। এ মাসেই হযরত ইব্রাহিম (আ.)এর ওপর সহিফাগুলো অবতীর্ণ  হয়েছে। হযরত দাউদ (আ.)এর প্রতি যবুর কিতাব এই মাসের ১২ অথবা ১৮ তারিখে নাযিল হয়েছে। হযরত মুসা (আ.)এর তাওরাত কিতাব এই মাসের ৬ তারিখে অবতীর্ণ হয়েছে। হযরত ঈসা (আ.)এর প্রতি ইনজিল কিতাব এই মাসের ১২ কিংবা ১৩ তারিখে অবতীর্ণ হয়েছে।

রমাদানের সঙ্গে কুরআনের বাহ্যিক ও অন্তর্নিহিত অসাধারণ মিল ও গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। কুরআন হলো রমাদানের নিগূঢ় তত্ত্ব; রমাদানের সঙ্গে কোরআনের সম্পর্কও সুগভীর। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ঘোষণা হয়েছে-

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ 

অর্থাৎ, রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে; মানুষের জন্য পথপ্রদর্শকরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সত্যাসত্যের পার্থক্য নির্ণয়কারী হিসেবে।(সূরা-বাকারা, আয়াত : ১৮৫)          

হাদীস অনুযায়ী রমাদানের পাঁচটি  সুন্নত। যথা-

১. ইফতার করা

২. সাহরী খাওয়া

৩. কিয়ামুল লাইল করা তথা তারাবিহের নামাজ পড়া

৪. কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা

৫. ইতিকাফ করা।

উক্ত পাঁচটি সুন্নতের দুটিই হলো স্বভাবজাত প্রয়োজন; যা মানুষ বাধ্য হয়ে করে থাকে। রোযা রাখার শক্তি-সামর্থ্য অর্জনের জন্য মানুষ সাহরী খায় আর রোযার ক্লান্তি ও ক্ষুধা নিবারণের জন্য পানাহার বা ইফতার করে। মূলত শেষোক্ত তিনটিই হলো রমাদানের মূল আকর্ষণ বা মৌলিক উদ্দেশ্য। আর এই তিনটির সঙ্গেই রয়েছে কুরআনের একান্ত সম্পর্ক। যথা-

রমাদানের তৃতীয় সুন্নত কিয়ামুল লাইল বা তারাবিহের নামায পড়া। এতে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, যা নামাযের ফরয ও ওয়াজিব রুকন এবং খতম তারাবিতে পূর্ণ কুরআন মজিদ খতম করা হয়, যা সুন্নত।

রমাদানের চতুর্থ সুন্নত কুরআন তিলাওয়াত করা। সাহাবায়ে কিরাম প্রায় সারা বছর প্রতি মাসের প্রতি সপ্তাহে পূর্ণ কুরআন শরিফ একবার তিলাওয়াত করতেন। প্রতি সাত দিনে এক খতম পড়তেন বলেই কুরআন মজিদ সাত মঞ্জিলে বিভক্ত হয়েছে। তাঁরা রমাদান মাসে আরও বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। সহীহ বুখারীর বর্ণনায়  এসেছে, হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমাদানে হযরত জিবরাইল (আ.)কে পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন এবং হযরত জিবরাইল (আ.)ও নবী করীম (সা.)কে পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ রমাদান মাসে তিনি হযরত জিবরাইল (আ.)কে পূর্ণ কুরআন মজিদ দুবার শুনিয়েছেন এবং হযরত জিবরাইল (আ.)ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পূর্ণ কুরআন মজিদ দুবার শুনিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, রমাদান শুধু কুরআন নাজিলের মাস নয়; বরং রমাদান মাস হলো কুরআন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, পঠন–পাঠন ও চর্চার মাস। সর্বোপরি রমাদান মাস হলো জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআন অনুশীলন ও বাস্তবায়নের মাস।  

রমাদানের পঞ্চম সুন্নত হলো ইতিকাফ করা; যা মূলত আল্লাহর সঙ্গে নির্জনবাস বা গোপন অবস্থান। যার উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে সঙ্গোপনে বিশেষ সান্নিধ্য অর্জন ও একান্ত আলাপচারিতা। কুরআন হলো কালামুল্লাহ বা আল্লাহর বাণী। কুরআন তিলাওয়াত হলো আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা বা আলাপচারিতা। তাই ইতিকাফের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো কুরআন তিলাওয়াত।

এ ছাড়াও ইসলামি শরিয়তে ঈমানের পরই হলো নামায। নামাযের উদ্দেশ্য হলো যিকির বা আল্লাহর স্মরণ। কুরআন মজিদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে-

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

অর্থাৎ আমার স্মরণোদ্দেশ্যে সালাত কায়েম করো। (সুরা-তোহা, আয়াত : ১৪)। তাই নামাযের উদ্দেশ্যও হলো আল্লাহর যিকির বা প্রভুর স্মরণ। কুরআন মজিদের অনেকগুলো নাম রয়েছে। এর মধ্যে তিনটিই হলো যিকির বা স্মরণ। যথা-

১. সূরা আল-ইমরানের ৫৮ নং আয়াতে কুরআনকে যিকরুল হাকিম বা কৌশলগত স্মরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আয়াতটি হচ্ছে-

ذَٰلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ الْآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ

২. সূরা হা-মীম সাজদা এর ৪১ নং আয়াতে কুরআনকে আয-যিকর বা মহাস্মরণ নামে অভিহিত করা হয়েছে।  আয়াতটি হচ্ছে-

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ ۖ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ

 (৩) সূরা আবাসা এর ১১ নং আয়াতে কুরআনকে তাযকিরা বা স্মারক নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।  আয়াতটি হচ্ছে-

كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ

রমাদান মাসে কিয়ামুল লাইল বা তারাবিহ, তাহাজ্জুদসহ বেশি বেশি নামায পড়া হয়, আর নামাযে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, এতে করে রমাদানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক ও রমাদান মাসে কুরআন তিলাওয়াত, অধ্যয়ন,  আমলের অনুশীলন, চর্চার সূত্র ও সুনিবিড়তা সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়।


রমাদান মাসে কুরআন নাযিল :

কুরআন নাযিলের মাস রমাদান। এ মাসেই আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেছেন। এ বিষয়ে তিনি ইরশাদ করেন-

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ

অর্থাৎ রমাদান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।(সূরা-বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

এ মাসের যত মর্যাদার কথা আমরা কুরআন ও হাদীস থেকে জানতে পাই, তার সবই এমাসে কুরআন নাযিলের কারণে। রমাদান মাসে আল্লাহ কুরআন নাযিল করে এ মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। আর যে মানুষগুলো এই মহাগ্রন্থ আল কুরআনের আলোকে নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলবে আল্লাহ তায়ালা গোটা পৃথিবীর সামনে তাদের মর্যাদা সমুন্নত করবেন।


রমাদানের লাইলাতুল কদরে কুরআন নাযিল :

রমাদান মাসের লাইলাতুল কদর তথা কদরের রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِوَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِلَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍتَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍسَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ

অর্থাৎ নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে কুরআন নাযিল করেছি। আপনি জানেন কি? কদরের রাত্রটি কী? কদরের রাত্রটি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম! সে রাতে ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন, জিবরাইল (আ.) সহ; তাদের রবের নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে সব বিষয়ে শান্তির ফয়সালা নিয়ে; তা উষার উদয় পর্যন্ত। (সূরা-কদর, আয়াত : ১-৫)

সূরা কদরের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে কুরআন নাযিল করেছি।’ এ আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায়, কদরের রাত্রিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। লওহে মাহফুযে কদরের রাত্রিতে এই কুরআন অবতীর্ণ হয়। এরপর হযরত জিবরাইল (আ.) ধীরে ধীরে তেইশ বছরে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছাতে থাকেন। এ কথাও বলা যেতে পারে, এ রাতে কয়েকটি আয়াত অবতরণের মাধ্যমে কুরআন অবতরণের ধারাবাহিকতা সূচনা হয়। এরপর অবশিষ্ট কুরআন পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়।

কুরআনের কারণে কদরের রাতের মর্যাদা :

ইসলামে স্বীকৃত বরকতময় ও মহিমান্বিত যেসব দিন ও রাত রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত। কদরের এক অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান। অন্যান্য রাতের তুলনায় এ রাতের মাহাত্ম্য ও সম্মান বেশি হওয়ায়  এটাকে লাইলাতুল কদর তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। আর এ রাতের মাহাত্ম্য ও  সম্মান বৃদ্ধি পাওয়ার একমাত্র কারণ হলো এ রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে।  
আবু বকর ওয়াররাক (রহ.) বলেন, এ রাতকে লাইলাতুল কদর বলার কারণ হচ্ছে, এ রাতে আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেটা মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব এবং যে নবীর ওপর অবতীর্ণ তিনিও মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, আর যে উম্মতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন তারাও মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। সর্বোপরি আমল না করার কারণে এর পূর্বে যার সম্মান ও মূল্য মহিমান্বিত থাকে না, সেও এ রাতে তওবা ইস্তিগফার ও ইবাদত–বন্দেগির মাধ্যমে মহিমান্বিত হয়ে যায়।

কদরের আরেক অর্থ তাকদির ও আদেশ। এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত তাকদির ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের হায়াত, রিযিক ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাকে লিখে দেয়া হয়।

কুরআন মাজিদে কদরের রাতকে ‘আলফে শাহার’ তথা হাজার মাসের চাইতেও উত্তম বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই রাতটি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশাল বড়ো নেয়ামত। একটি রাতের ইবাদত এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৪ বৎসর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কত বড়ো নেয়ামত! শুধু তাই নয়, এই রাতে ইবাদত করলে আল্লাহ তায়ালা পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে তার পূর্বের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী : হাদীস ২/৬৭২, সহীহ মুসলিম : হাদীস ১/৫২৩) সুতরাং এসব ফযিলত ও মাহাত্ন শুধুমাত্র এ রাতে কুরআন নাযিল হওয়ার কারণে।

কুরআন নাযিলের মাসে আমাদের করনীয় :

কুরআন নাযিলের মাসে আমাদের করনীয় হচ্ছে-

. কুরআন শিক্ষা করা এবং শিক্ষা দেয়া। কেননা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয় সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। (সহীহ বুখারী : ৪/১৯১৯)

. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। কেননা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে সে একটি নেকী অর্জন করবে। তার নেকীকে দশগুণ বৃদ্ধি করে প্রদান করা হবে। (তিরমিযী : ২৯১০) অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআন পাঠ করবে; কারণ কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীদের জন্য শাফায়াত করবে। (সহীহ মুসলিম : ১/৫৫৩)

. অর্থ বুঝে কুরআন পড়া। কেননা কুরআনের অর্থ বুঝলেই পরিপূর্ণ সাওয়াবের আশা করা যায়। না বুঝে তিলাওয়াত করলে হয়ত আল্লাহর কালাম মুখে উচ্চারণের কিছু সাওয়াব আমরা পাব। তবে না বুঝে পড়ার জন্য তো আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেননি। আল্লাহ বারবার বলেছেন, কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য হলো যেন মানুষেরা তা বুঝে, চিন্তা করে এবং উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ বলেছেন-

كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ

‘ এক বরকতময় কল্যাণকর গ্রন্থ আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যেন তারা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীগণ উপদেশ গ্রহণ করে।’

. কুরআন দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট গড়া : যে উদ্দেশ্যে রমাদানে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, সে কুরআন দিয়ে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র  বিনির্মাণে আমাদের সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই সমাজে শান্তি আসবে এবং অশান্তি দূরীভূত হবে। যেমনটি দেখা গিয়েছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবাদের  যুগে। কুরআন দিয়ে সমাজ গড়ে তোলার পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমার যুগই সর্বোত্তম (সোনালী) যুগ অতঃপর আমার পরের যুগ অতঃপর তার পরের যুগ।’ কাজেই সেরূপ সোনালী যুগ প্রাপ্তির আশায় আমাদেরও উচিত কুরআন দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। 

সুতরাং মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে যে উদ্দেশ্যে রমাদানে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, সে কুরআন দিয়ে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট  বিনির্মাণে আমাদের সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই দূর হবে আমাদের মধ্যকার হানাহানি-মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ, উঁচ-নিচুর ভেদাভেদ আর সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সার্বজনীন শান্তি ও নিরাপত্তা। তাই আসুন রমাদানের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করি এবং গোটা সমাজকে আল কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত করি।

লিখেছেন :

মো: মোহিব্বুল্লাহ আজাদ, লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবীদ।

ই-মেইল- mmazad1973@gmail.com

Related Posts