দৈনন্দিন জীবন

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব

ভূমিকা : ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ মাসেই তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য, বঞ্চনা, শোষণ ও আক্রমণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ-সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। আর এদেশের মুক্তিকামী মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধিকার অর্জনের শপথ নিয়েছিল। ফলে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ মনোজগতে সব সময় স্বাধীন; তাই সে বস্তুজগতেও স্বাধীন থাকা পছন্দ করে।

স্বাধীনতা মানে : স্বাধীনতা মানে সত্য প্রকাশে ভীতিহীনতা, সত্য গ্রহণে বাধাহীনতা, সত্য প্রচারের নির্বিঘ্নতা, সত্য সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চলার স্বাতন্ত্রতা। স্বাধীনতা হলো সুন্দর, সুশীল, সুকুমারবৃত্তি চর্চার সহজবোধ্যতা। স্বাধীনতা মানে অসুন্দরকে বর্জন করার সক্ষমতা, অসত্যকে অগ্রাহ্য করার শক্তিমত্তা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসিকতা।

স্বাধীনতার ইতিহাস : ব্রিটিশ শাসনের দেয়াল ভেঙে কালক্রমে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়। তবে স্বাধীনতা অর্জন হলেও ইসলামের নামে সৃষ্টি হওয়া পাকিস্তান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর অপকৌশলে ইসলামের প্রকৃত মুক্তির স্বাদ জনগণকে উপহার দিতে পারেনি। ফলে ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, আইয়ুব খান ও ভুট্টোর মতো নরাধমেরা আবার পূর্ব-পশ্চিমের পার্থক্য তৈরি করল; বাঙালি আর পাঞ্জাবির মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল সৃষ্টি করল। বাঙালি যেন স্বাধীন হয়েও আবার পরাধীন হলো।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হলো। এ আন্দোলনে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
তারপরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করে আবারও মুক্তিপাগল জনগণকে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ করে রাখতে চাইল। কিন্তু এ দেশের জনগণ, যাদের ইমানে মুক্তির বাণী, বিশ্বাসে স্বাধীনতার ধ্বনি, তারা তা মানতে অস্বীকৃতি জানালো। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হলো। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর পরাজয় বরণ করলো জালিম শাহি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভ করলো মুক্তিকামী জনগণ। জন্ম হলো স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

ইসলাম স্বাধীনতার শিক্ষা দেয় : স্বাধীনতা আল্লাহর নিয়ামত। স্বাধীনতা যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, তেমনি ইসলামের মানবিক শিক্ষা। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু পরাধীন দাসদের মুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি দাসকে সন্তান বানিয়েছেন, তিনি ক্রীতদাসকে ভাইয়ের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, তিনি গোলামকে সেনা অধিনায়ক বানিয়েছেন। বংশানুক্রমিক দাসানুদাস কৃষ্ণবর্ণ হাবশি বিলাল (রা.)কে মসজিদে নববির প্রধান মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে আরব-অনারব, ধনী-দরিদ্র সবাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। রোম, পারস্যসহ সারা পৃথিবীতে ইসলামের স্বাধীনতার বাণী বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষের শ্রেণিবৈষম্য ও বর্ণবৈষম্যের শিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত কোটি কোটি মানবসন্তান স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করার জন্য ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে। মুক্তির সুধা পান করেছে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।

ইসলামে স্বাধীনতার গুরুত্ব :  ইসলামে স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এটাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। আল্লাহ তাআলা সবাইকে বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা দিয়েছেন। স্বাধীনতা সম্পর্কে ইসলামী আদর্শের মূল কথা হলো মানুষ মানুষের গোলামি করবে না। মানুষ একমাত্র তার সৃষ্টিকর্তার গোলামি করবে। পৃথিবীতে লক্ষাধিক নবী-রসুলের আগমন হয়েছে। তাঁরা সবাই সমাজ, দেশ, জাতি তথা মানুষের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন। মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য নবী-রসুলগণ অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

বলা যায়, সব ধরনের দাসত্ব ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত করাই ছিল মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলদের কাজ। এই স্বাধীনতার জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে মদিনায় সংগঠিত হয়ে মক্কাকে করেছিলেন স্বাধীন। সবাইকে উপভোগ করতে দিয়েছিলেন মক্কা বিজয় তথা স্বাধীনতার প্রকৃত আনন্দ। বিজয় সম্পর্কে আল কোরআনে দুটি সূরা রয়েছে। একটি সূরা আল-ফাতহ, আরেকটি সূরা আন নাসর । আসলে বিজয়ের যে আনন্দ তা আল্লাহর শুকরিয়া, আল্লাহর পবিত্রতা ও বড়োত্ব বর্ণনার মাধ্যমেই প্রকাশ করার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দেয়।

ইসলামের ইতিহাস পড়লে জানা যায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষায় মহানবী (সা.) যখনই আহ্বান করেছেন তখনই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সর্বতভাবে এ ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা জানতেন, নিজেদের বিশ্বাস, আদর্শ ও দ্বীন-ধর্মমত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রয়োজন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যেমন আন্তরিক ছিলেন, তেমনি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায়।

স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা : ইসলাম মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জোরালো তাগিদ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করার পর মদিনাকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গণ্য করেন এবং মদিনার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষার তাগিদ থেকেই ইসলাম মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মুখের দিকে তাকিয়ে, কারও চাপে বা তোষামোদে পড়ে অন্যের অধিকার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকে ইসলাম সমর্থন করে না। আর তা নেই বলেই ইসলাম মানুষের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী। সেই মূলনীতির আলোকে মানবসমাজ থেকে যাবতীয় অন্যায়ের মূলোতপাটন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। কারণ সব ধরনের শোষণ, নির্যাতন, অন্যায় ও অবিচারের মূলে রয়েছে জুলুম। পরাক্রমশালী শত্রুর জুলুম দ্বারা ব্যক্তির স্বাধিকার হরণ করা হয়। পরাধীনতা জুলুমের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সাহায্য করে। অথচ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলুমের অবসান ঘটানো ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই মানবজীবনে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অতীব প্রয়োজনীয়। স্বাধীন রাষ্ট্র ছাড়া সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সমাজ তৈরি করা সম্ভব হয় না।

স্বাধীনতা সুরক্ষায় নিয়োজিতদের মর্যাদা : যারা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জন বা সুরক্ষার জন্য অবদান রাখেন তাদের মর্যাদাও ঘোষণা করেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। একাধিক হাদীসে তিনি মুসলমানদের তাদের মাতৃভূমির সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। এক হাদিসে তিনি শত্রুর আক্রমণ থেকে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য এক রাত পাহারা দেওয়াকে এক মাস নফল নামাজ ও রোজার চেয়ে উত্তম বলে গণ্য করেছেন। ইসলামে নামাজ ও রোজার মর্যাদা অপরিসীম। মাতৃভূমির সুরক্ষাকে সে মর্যাদার অনুষঙ্গ করা হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হলে যেমন সে আক্রমণ প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য তেমন মাতৃভূমি আক্রান্ত হলেও তা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির গৌরব : বাংলাদেশসহ বিশ্বের ইতিহাসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ মুক্তিসংগ্রাম, গণ-আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ বা কঠিনতম কর্মের মধ্যে আত্মদানকারী অসংখ্য দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান নেতাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। আমাদের দেশ ও মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের মর্যাদা অতি মহান। তারা দেশ ও জাতির গৌরব। ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ চাহে তো তারা শহিদ, শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত। দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য যারা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করে শাহাদাত বরণ করেন, তাদেরকে হাদীসে শহিদ বলা হয়েছে। যেমন ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহিদ।’ (নাসাঈ ৭/১১৬,১১৭, সহীহুত তারগীব লিল আলবানী ২/৭৬, হাদীসটির সনদ সহীহ্) অন্য এক হাদীসে হযরত সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের অধিকার বা হক প্রতিষ্ঠা বা রক্ষা করতে মৃত্যুবরণ করে তার মৃত্যু খুবই ভালো মৃত্যু।’

১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতা অর্জনে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সমগ্র জাতি তাদের কাছে চিরঋণী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক হানাহানি ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ রেখে যাওয়ার প্রত্যাশায় তাদের আত্মত্যাগ চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়ে শহীদরা ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, তাদের অবদানের কখা স্বরণ করা ও আলোচনা করা, তাদের প্রশংসা করা ও তাদের জন্য দোয়া করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয় সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ যে মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ।’ (তিরমিযী ৪/৩৩৯, মুসনাদে আহমদ ৫/২১২, হাদীসটি সহীহ।’)

স্বাধীনতা পরবর্তী সাফল্য-ব্যর্থতা : স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের যেমন সাফল্য রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। খাদ্যৎপাদনে সাফল্য, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, চিকিৎসা সেবার সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট যোগাযোগ ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি, পোশাক খাতে সাফল্য প্রভৃতি আমাদের অনন্য অর্জন। এই অর্জনগুলোকে যেমন ধরে রাখতে হবে তেমনি এর পরিসর আরও সম্প্রসারণ এবং সংহত করতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়নি, অনেক মৌলিক মানবাধিকার থেকে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী এখনো বঞ্চিত। সমাজে প্রতিহিংসা এখন চরম আকার ধারণ করেছে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু এর মানের অবনতি হয়েছে এবং নৈতিক অধঃপতনের হার বেড়েছে। ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ব্যাপকতর হয়েছে। মাদকাসক্তি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাধীনতার এই মাসে আমাদের নিরন্তর কামনা, আমরা এই অবস্থা থেকে অব্যাহতি চাই। সেই সঙ্গে অতীতের ব্যর্থতার সব গ্লানি ভুলে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। দলমত নির্বিশেষে সবাই যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দুষ্কৃতির মূলোতপাটন ও সুকৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের চেষ্টা করি তাহলেই কেবল আমরা ভোগ করতে পারব স্বাধীনতার সুফল।

সমাপনী : কতই না চমৎকার মহানবী (সা.) এর আদর্শ, বিশ্বস্ততা, একনিষ্ঠতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মহানুভবতা। শান্তি ও মানবতার কথা বলে কোটি কোটি হৃদয়কে তিনি আকর্ষিত করেছিলেন। সবাইকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এনে দিয়েছিলেন প্রকৃত স্বাধীনতা। সমাজে তাঁর লড়াই ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াই। আর এ লড়াই তিনি করেছিলেন ভালোবাসার মাধ্যমে। মহান স্বাধীনতার এই দিনে আমরা স্মরণ করছি তাদের, যারা আত্মদান করে আমাদের দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বাধীন দেশ। তাই আসুন! এদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে উন্নত দেশ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে আমরা প্রত্যেকে সদা তৎপর থাকি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাদ উপভোগ করতে চোর, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের বিরূদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলি। মহান আল্লাহ-তাআলা আমাদের সকলকে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্ম বোঝার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লিখেছেন :

মো: মোহিব্বুল্লাহ আজাদ, লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবীদ।